নিজস্ব সংবাদদাতা,পশ্চিম মেদিনীপুরঃ

সামনে লোকসভা নির্বাচন তার আগেই জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলগুলি থেকে শিক্ষকদের বদলির হিড়িক পড়ে গিয়েছে।কেন এই বদলি তা পড়ুয়া থেকে শুরু করে অভিভাবক এমনকি শিক্ষকরাও জানেন না।আর এই বদলি নিয়ে জোর আন্দোলন শুরু হয়েছে স্কুলগুলিতে।পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় ব্লকের বেলদাতে গত কয়েকদিন আগে ‘জানোকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখান ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে অভিভাবকেরা।

এরপরই বৃহস্পতিবার দাঁতন ২ নং ব্লকের কেদারে,কেদার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একইভাবে বিক্ষোভ দেখান ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা।শুক্রবার নারায়ণগড়,দাঁতন চক্রের আরও কিছু ইস্কুলে এই শিক্ষকের বদলির কথা অভিভাবকেরা জানতে পারেন।অবশেষে স্কুলে তালা না লাগিয়ে রাস্তা অবরোধ এবং দাঁতন ২ নং ব্লকের জাহালদা চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান তারা।
আরও পড়ুন: শিক্ষকের দাবীতে স্কুলে তালা

অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসের সামনে বেলদা থেকে কাঁথিগামী রাজ্য সড়কে খানিকক্ষণ অবরোধের ফলে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়।অবশেষে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জোড়াগেড়িয়া ফাঁড়ির পুলিশ। বিক্ষোভরত ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের তারা বোঝানোর চেষ্টা করেন।জাহালদা চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসের কাছেই রয়েছে দাঁতন ২ নং ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের অফিস।ফলে অনিবার্য কারণবশত অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ঘটনার সময় না আসায় ওই অবস্থার সামাল দিতে হাজির হন দাঁতন ২নং ব্লকের যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক।

পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি বিক্ষোভরত ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং আশ্বস্ত করেন।পরে ঘটনাস্থল থেকে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন দাঁতন ২নং ব্লকের যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক।সমস্ত ঘটনার কথা তিনি জানান অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে।অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের কথামতো তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন।বিক্ষোভরত উক্ত অঞ্চলের এক অভিভাবক প্রকাশ দাস জানান,”অবিলম্বে নিয়ম বহির্ভূত শিক্ষক বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হবে।
যে সকল স্কুলে শিক্ষকদের এইভাবে বদলি হচ্ছে সেই সকল স্কুলের পঠন পাঠনের মান অনুন্নত হতে পারে ,কারণ ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যার তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম হয়ে যাচ্ছে।ফলে পঠন-পাঠনের অসুবিধা হচ্ছে সেই দিকে লক্ষ রেখে আগে বিদ্যালয়গুলিতে নিয়োগ হোক।নচেৎ যে সকল স্কুলগুলিতে বদলির নোটিশ এসেছে সেই সকল স্কুল গুলিতে একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক।না হলে এই নিয়ম বহির্ভূত অনৈতিকভাবে শিক্ষক বদলি বন্ধ করতে হবে।আজ এই দাবিতে আমরা ডেপুটেশন দিতে এসেছি।দাবি না মানলে আমরা পরবর্তী ক্ষেত্রে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।”
অপরদিকে বিক্ষোভ সামলাতে এসে পুলিশ প্রশাসনের মানবিক দিক দেখলো এলাকাবাসী।যেকোনো বিক্ষোভ সামলাতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে।কখনো কখনো পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থাও নিতে হয় কিন্তু এবারের অবস্থাটা ছিল অন্যরকম।বিক্ষোভ সামলানোর পাশাপাশি বিক্ষোভরত ছাত্রীদের বিস্কুট ও চকোলেট খাওয়ালেন পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা।কচিকাঁচা এই ছেলে মেয়েদের আন্দোলন তাদেরকেও ভাবিয়ে তুলেছে।
কারণ শিক্ষকের দাবি নিয়ে রোদে গরমে ঘেমে অভিভাবকদের সঙ্গে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে স্কুল থেকে হেঁটে তাদের দাবি আদায়ে কষ্ট করে এসেছিল কচিকাঁচা ছাত্রছাত্রীরা।সেই দাবি পূরণের আশ্বাসের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে বিস্কুট ও চকলেট পেয়ে খুশির কচিকাঁচারা।পুলিশের এই ভিন্নধর্মী কর্মকাণ্ড দেখে অনেকটা অবাক হয়েছেন কচিকাঁচা ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে আসা অভিভাবক তথা এলাকাবাসীরাও।
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584