পাঠকের মতামত-“আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মূল ক্যাম্পাস থেকে ইসলামিক থিওলজীর পাস কোর্স তুলে দেওয়ায় নিন্দায় মুসলিম সমাজ”-মোঃ আব্দুল কাহার।

0
608

পাঠকের মতামত  -“আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মূল ক্যাম্পাস থেকে ইসলামিক থিওলজীর পাস কোর্স তুলে দেওয়ায় নিন্দায় মুসলিম সমাজ”-মোঃ আব্দুল কাহার।

আজ যে চক্রান্ত করে আলিয়া বিশ্ববিদ্যায়ের প্রধান ক্যাম্পাস থেকে থিওলজী পাস কোর্স তুলে দেওয়া হল তা মুসলিম সমাজ মেনে নেয়নি আর কোনদিন মেনে নেবে না বলেই আমাদের মনে হয়। কারন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল ভিত হল ইসলামিক থিওলজী বিভাগ, আলিয়াতে একমাত্র ইসলামিক থিওলজী পড়ানো হয় এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্য কোনও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয় পড়ানো হয় না। ফুরফুরাতে এই বিষয় পড়ানো হলেও তা কেবল ছেলেদের জন্য, মেয়েদের পড়ার কোন ব্যবস্থা নেই। বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া (উলুবেড়িয়া,ডানকুনি, সিতাপুর, পিরনগর), দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা (ক্যানিং, ডায়মন্ড সপ্তগ্রাম, লক্ষিকান্তপুর, কুলপি, আকড়া-সন্তোষপুর, স্বরূপনগর, আমিনপুর,বসিরহাট ) ইত্যাদি জায়গার যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা ৪৫% এর নিচে নম্বর পায় তারা আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও ফুরফুরাতে ইসলামীক থিওলজীকে পাস কোর্সের জন্য উচ্চ শিক্ষার স্থান হিসাবে বেছে নেয়। আলিয়া থেকে পাস কোর্স তুলে দিলে এই সমস্ত দুরদুরান্ত থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের পাস কোর্স নিয়ে ফুরফুরাতে পড়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে মহিলাদের। যেহেতু ফুরফুরাতেও তাদের জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে ভরসা একমাত্র আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। যদি এখান থেকে পাশ কোর্স তুলে দেওয়া হয় তাহলে এই সাত জেলার মহিলারা ইসলামীক থিওলজী নিয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। কারণ থিওলজী বিষয়ের জন্য বহিরাগত শিক্ষাঙ্গনের কোনও ব্যবস্থা নেই। যেখানে কন্যাশ্রীর জন্য বিশ্বের মানচিত্রে বাংলা এক নম্বর স্থান করে নিয়েছে এবং বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং সংখ্যালঘু দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী,সেখানে সংখ্যালঘু মহিলারা উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে তা কখনও মেনে নেওয়া যায় না।
কিছু মানুষ পথ চলার মাপ কাঠি হিসাবে ন্যায় অন্যায় কে বিচার করে না, নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে পদলিহন আর গোলামী জীবনের মূলধন হিসাবে বেছে নেয়।
আজ কাল দেখতে পাচ্ছি কিছু কিছু সাংবাদিক তাদের লেখার মধ্যে মিথ্যা তথ‍্য দিয়ে উপাচার্য আবু তালেব খানের ভূয়সী প্রশংসা করছে,তাদের কাছে আমার কয়েক টি প্রশ্ন, যদি উপাচার্য মহাশয় ইসলামীক থিওলজী বিভাগের উন্নয়নের প্রেরণা হয়ে থাকে, দীর্ঘ তিন বছর আন্দোলনের পর তালতলা ক্যাম্পাসে মূল ভবনের কাজ শুরু করা হয়, তাহলে বর্তমান একবছর দুই মাস সেই কাজ বন্ধ কেন?

দ্বীতিয়ঃইলিয়ট হোস্টেলের পাসে একটা ছাত্রদের হোস্টেল নির্মানের কাজ শুরু করে তা বন্ধ করল। অথচ যে কারন দেখিয়ে উপাচার্য হোস্টেল নির্মানের কাজ বন্ধ করলেন,তার থেকে কঠিন পরিস্তিতি উপেক্ষা করে,তার পাশের জায়গাতে মাওলানা আজাদ কলেজ তাদের মেয়েদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ করে নিলো।এটা যদি তাদের কাছে সম্ভব হয়ে থাকে,আলিয়া পারবে না কেন?

তৃতীয়ঃ এই হালে নিউটাউন ক্যাম্পাস নির্মান হল ,সেখানে গার্সল হোস্টেল নির্মান হয়ে গেল, কিন্ত এখন ও পর্যন্ত 1780 সাল থেকে তালতলা মূল ক্যাম্পাসে কোন গার্লস হোস্টেল নির্মান হল না কেন?

পুরোনো ক‍্যাম্পাসে কোন ক‍্যান্টিন বা ছাত্রী হোস্টেল নেই।

চতুর্থঃ নিউটাউন ও পার্কসার্কাস ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উপাচার্য ক্যানটিন এর ব্যবস্থা করে দিলেন,কিন্ত আজ ও পর্যন্ত তালতলা মূল ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য উপাচার্য কোন ক্যানটিন তৈরী করেনি। এটা কি থিওলজী বিভাগের প্রতি উপাচার্যের দ্বীচারিতা ও অবিচার নয়?
4/8/17 তারিখে নিউজফ্রন্টে পাঠকের মতামতে দেখলাম ফারুক আহমেদ বলে একজন লেখক লিখেছেন যে, ছয়জন হাদিস কোরান নিয়ে পড়া ছাত্র সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে গবেষনা (PhD) করছেন যা সম্পন্ন ভিত্তিহীন মিথ্যা। লেখক ফারুক আহমেদ এর আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে লেখা পড়ে মুসলিম সমাজ মর্মাহত। লেখক ফারুক আহমেদর লেখার তীব্র নিন্দা করছি ।

বর্তমানে তিন জন ছাত্র হাদিস কোরান নিয়ে গবেষনা করছেন, যেখানে 2017 সাল পর্যন্ত 12 জন ছাত্রের গবেষনা করার কথা,সেখানে মাত্র তিনজন। এটা কি থিওলজী বিভাগের উন্নয়ন? দীর্ঘ এক বছর আন্দোলনের পর তিনটে হাদিস তাফসীর গবেষনার ছাত্র কে Admission করেছিলেন উপাচার্য কিন্ত আজ ও পর্যন্ত তাদের গবেষনার কাজ শুরু করতে পারেননি।
পাঠকদের আরো একটা বিষয় স্মরন করিয়ে দিই,আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী হয়েছে মাদ্রাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের Act এ পরিষ্কার বলা আছে মাদ্রাসার যে চরিত্র ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই চরিত্র থাকবে। Act অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামীক শিক্ষা বেশী গুরুত্ব পাওয়ার দরকার। আজ সেখানে ইসলামীক বিভিন্ন বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের চক্রান্তে অবলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ।তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রস্তাবিত 28 কোর্সের মধ্যে এখন পর্যন্ত 23 টি বিভাগ চালু হয়েছে,অথচ প্রস্তাবিত কোর্সের 1-খ তে ইসলামী ব্যবহারশাস্ত্র (ফেকাহ) এবং আইন (Law)বিভাগও 5-খ প্রস্তাবিত ইসলামীক ব্যাঙ্কিং, ফাইন‍্যান্স ও ইনসিওরেন্স বিভাগের উল্লেখ আছে, তা চালু হল না।কিন্তু পরে প্রস্তাবিত হওয়া কোর্স চালু হয়ে গেল,আর এই বিভাগ গুলো চালু হল না।উক্ত বিভাগ গুলো কি উপাচার্যের নজরে আসেনি?
দীর্ঘ দুই বছর সংগ্রাম করার পর ইসলামীক স্টাটিজ বিষয়ে UG কোর্স চালু হলো, এখন ও পর্যন্ত তার স্হায়ী শিক্ষক নিয়োগ হলোনা।অথচ অন্য বিভাগে ছাত্র- ছাত্রীদের তুলনায় শিক্ষক বেশী। তাহলে কি ভাবে এই বিভাগ টি চলবে? কেউ কেউ তবুও বলছে উপাচার্য ইসলামীক শিক্ষার উন্নয়নের প্রেরণা।

আন্দোলনের কিছু মূহুর্ত।

তাই এই বঞ্চিত ছাত্র-ছাত্রীদের বিরোধিতা না করে কোরান হাদিস বাঁচানোর সংগ্রামকে সম্মান জানিয়ে সকল শিক্ষাপ্রেমী সমাজ ও মুসলিম শুভ-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যে ভিত্তিহীন সংবাদ ও অভিযোগ প্রচার করছে, তা না করে ছাত্র-ছাত্রীদের মূল ও ন্যায্য দাবীগুলোকে তুলে ধরার জন্য অনুরোধ করছি। নয়তো সংখ্যালঘু সমাজের ছাত্র-ছাত্রীরা পিছিয়ে যাবে।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটে ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রীরা মূলত যে দাবী গুলো নিয়ে আন্দোলন করছে তা হল- ১) তদন্ত কমিটির রিপোর্টকে মান্যতা দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
২) ২০১৬ সালে উপাচার্যের উপস্থিতিতে ভর্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে বহাল রেখে, উচ্চ শিক্ষায় আসন সংকোচনের সিদ্ধান্তকে বাতিল করতে হবে।
৩) দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ক্যাম্পাসের একাডেমিক সংক্রান্ত মোট ৪৯টি সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়ে দাবী জানানো হয়। কিন্তু উপাচার্য মহাশয় এখনও পর্যন্ত এর সঠিক সমাধান করতে পারেননি।সেই সমাধান করতে হবে।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা কোনদিন অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেনি আর করবে না। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী করতে গিয়ে ইসলামীক থিওলজী ও আরবী বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা মার খেয়েছে, রক্ত ঝরিয়েছে, জাতির মেরুদণ্ড শক্ত করার স্বার্থে জেল খেটেছে, তার ফলস্বরূপ এই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি মজবুত হয়েছে। আজ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির আঁতুড়ঘর তৈরী হবে,সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে তা মেনে নেওয়া যায় না।

এবিষয়ে দেখছি কিছু অসৎ মানুষ ছাত্র-ছাত্রীদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির আন্দোলনকে অসম্মান করে বিভিন্ন পত্র পত্রিকাতে সত্য বিষয়টা ধামাচাপা দিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। পরিশেষে বলি, দুর্নীতি মুক্ত আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে তিনটে ক্যাম্পাসের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা সমষ্টিগতভাবে এই আন্দোলন করছে, ব্যক্তিগত ভাবে কোনও বিভাগ এই আন্দোলন করেনি।

লেখক:মো:আব্দুল কাহার,আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্র সংসদ এর সাধারণ সম্পাদক।

মাদ্রাসা শিক্ষা বিষয়টা যাতে প্রসার করা যায়, তার জন্য আমরা মাননীয় উপাচার্য মহাশয়ের কাছে আবেদন করেছিলাম। বলেছিলাম পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেকটা কলেজে ইসলামিক থিওলজী বিভাগটা আপনি চালু করুন অথবা প্রত্যেকটি জেলায় যে সমস্ত সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসা আছে সেই গুলোকে কলেজ স্তরে উত্তীর্ণ করে কামিল কেন্দ্র খোলা হোক। উপাচার্য মহাশয় কয়েকটা কেন্দ্র খুললেও ইসলামিক থিওলজীর স্বার্থে সম্পূর্ণ কাজটা করলেন না।
তবে পাস করতে পারেনি, এমন ছাত্র-ছাত্রীদের পাশ করিয়ে ভর্তি করতে হবে এই অন্যায় দাবী করে কেউ কিন্তু আন্দোলন করেনি। ফলে সবাইকে অনুরোধ সত্যকে তুলে ধরুন, দেশের ভবিষ্যতকে উজ্জ্বল করার জন্য , আগামী প্রজন্মকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য।

 

 

(প্রকাশিত মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব মন্তব্য। মতামতের দায় নিউজফ্রন্ট কর্তৃপক্ষ নেবেনা।)

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here