চোখের জলে শেষ বিদায় জানাল মান্নান হোসেনকে মুর্শিদাবাদবাসী

0
5305

নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ:সকাল থেকেই প্রকৃতি মুখ গম্ভীর করে আছে, হেমন্তের হাল্কা ঠান্ডায় ঝিপ ঝিপে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে দলীয় সমর্থকদের চোখের জলে মান্নান হোসেনকে শেষ বিদায় জানালেন। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতিকে একবার শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বহরমপুর জেলা দলীয় কার্যালয়ে উপচে পড়ল জনতার ভিড়। জেলার ২৬ টি ব্লক থেকেই হাজির হয়েছিলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলির পক্ষ থেকেও মান্নান হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হন জেলাস্তরের নেতারা। বুধবার সকাল ৯টার সময় মরদেহ বহরমপুরে দলের জেলা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।সকাল ১০টা পর্যন্ত তাঁর  মরদেহ জেলা কার্যালয়ে রাখা হয়।

নিজস্ব চিত্র

সেখানে রাজ্যের তিন প্রতিনিধির সঙ্গে হাজির ছিলেন শ্রম দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, প্রাক্তন মন্ত্রী সুব্রত সাহা প্রমুখ। জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মরদেহে মাল্যদান করেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস, টাউন কংগ্রেসের সভাপতি অতীশ সিংহ প্রমুখ। সি পি আই (এম) ‘র পক্ষ থেকে মরদেহে মাল্যদান শোক জ্ঞাপন করা হয়। এরপর তাঁর মরদেহ পারিবারিক জায়গাতে সমাধিস্থ করা হয়।

সন্তান ও সহযোদ্ধা সৌমিক হোসেন শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। নিজস্ব চিত্র

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় মান্নান হোসেনের মৃতদেহ কোলকাতা থেকে তাঁর বাসভবন বহরমপুরের খাগড়া ঘাটের বাড়িতে আনা হয়।সেই গভীর রাতে তাদের প্রিয় নেতাকে একবার শেষ দেখা দেখবার জন্য ভিড় জমান কয়েক হাজার মানুষ।

প্রিয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাজির কর্মী সমর্থক। নিজস্ব চিত্র

১৯৫২ সালের ১৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন মান্নান হোসেন।বহরমপুর কলেজ থেকে স্নাতক হন।ছাত্র জীবন থেকেই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। কলেজে পড়াকালীন সময়ে তিনি ছাত্র সংসদের সহসম্পাদক হন এবং ছাত্র রাজনীতির হাত ধরেই জাতীয় কংগ্রেসের সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ।১৯৮২ থেকে ৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি মুর্শিদাবাদ জেলাপরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৮৭ সালে মুর্শিদাবাদ বিধানসভার বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০০৪ ও ২০০৯ দুবার তিনি মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে মুর্শিদাবাদ লোকসভা নির্বাচনে বামপ্রার্থীর কাছে পরাজিত হন এবং দলীয় অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তোলেন তৎকালীন মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরির বিরুদ্ধে।শুরু হয় মনমালিন্য। দীর্ঘদিনের দল পরিত্যাগ করে কংগ্রেস ২০১৪ তে যোগ দিলেন তৃনমূল কংগ্রেসে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিজ্ঞ নেতার উপর ভরসা করলেন এবং তাঁর হাতেই তুলে দিলেন জেলা সভাপতির গুরুভার।এতদিনের অধীরের গড় ভেঙ্গে পড়তে লাগল একের পর।পৌরসভা থেকে পঞ্চায়েত সর্বত্রই তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা লাভ করতে শুরু করে। মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তিনি জেলা সভাপতির দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here