রাজ্য সরকারের দূর্নীতি ও জেলাভাগ ইস্যুতে সাংবাদিক সম্মেলন ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়া-র

0
85

নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ফ্রন্টঃ

ওয়েলফেয়ার পার্টির মুর্শিদাবাদ জেলা বিভাজন কমিটি আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুর্শিদাবাদ জেলা বিভাজন সংক্রান্ত মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার কড়া সমালোচনা করে ও দূর্নীতি প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তীব্র ধিক্কার জানায়। বিগত ১লা আগষ্ট’২২ সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন জেলার সাথে সাথে মুর্শিদাবাদ জেলাকেও বিভাজনের একটি ঘোষণা করেন এবং সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন নতুন সাতটি জেলার (যার মধ্যে কয়েকটি পুলিশ জেলাও রয়েছে) পরিকাঠামো আগামী ছয় মাসের মধ্যে তৈরি করা হবে। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় তৈরি হয়েছে বেশ কিছু বিভ্রান্তি।

নিজস্ব চিত্র

এদিন ওয়েলফেয়ার পার্টির মুর্শিদাবাদ জেলা বিভাজন কমিটির আহ্বায়ক তথা পার্টির রাজ্য সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, “এই রাজ্য সরকার যে আকণ্ঠ দূর্নীতিতে ডুবে রয়েছে তা আজ আর রাজ্যবাসীর কাছে কোনও অজানা বিষয় নয়। ইডির অভিযানে রাজ্যের একের পর এক জায়গা থেকে যেভাবে কোটি কোটি হিসাব বহির্ভূত টাকা ও অবৈধ সম্পত্তির হদিস মিলছে তাতে স্বাভাবিক ভাবেই বেকায়দায় শাসক দল । আর, সেই কারণেই শাসক দলের পাহাড়প্রমাণ দূর্নীতির চর্চা থেকে বাংলার আপামর জনসাধারণের দৃষ্টি ঘোরাতেই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী তার ঘোষণায় এধরণের বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন । প্রথমত:,  ঘোষিত ৭টি জেলার কয়টি পুলিশ জেলা ও কয়টি প্রশাসনিক জেলা তা স্পষ্ট করা হয়নি। দ্বিতীয়ত:, মুর্শিদাবাদ জেলায় ইতিমধ্যেই দুটি পুলিশ জেলা (বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদ) থাকার পরেও জেলাকে প্রশাসনিক ভাবে ৩টি(কান্দি-মুর্শিদাবাদ-বহরমপুর)নাকি ৪টি (জঙ্গিপুর-কান্দি-মুর্শিদাবাদ-বহরমপুর) ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্তর গোলোযোগ ! তৃতীয়ত: মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নতুন জেলার ঘোষণায় মনে হল কোনও পূর্ব পরিকল্পনা ছিল না! মনে হচ্ছিল যেন কোনও এক হুজুগের বসে এসে তিনি একাধিক জেলা গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছেন! কারণ, নতুন জেলাগুলি কয়টি ব্লক নিয়ে তৈরি হবে, তাদের ভৌগলিক সীমানাই  বা কি হবে সেসব কিছুই স্পষ্ট করা হয়নি! একাধিক জেলার নামকরণের সিদ্ধান্তও নাকি চূড়ান্ত হয়নি ! প্রশ্ন থাকছে, তাঁর এই খেয়ালী ঘোষণা কি আদৌ সীমানা কমিশনের দ্বারা নির্ধারিত সীমানাকে মান্যতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে ? নতুন জেলার প্রশাসনিক ঘোষণা সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে আলোচনা করেই নেওয়া হয়েছে তেমনটা তো মোটেও স্পষ্ট হয়নি, বরং সম্প্রতি এই ঘোষণার পরে বিভাজিত মুর্শিদাবাদ জেলার নামকরণ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সাংসদ খলিলুর রহমান ও তৃণমূল কংগ্রেসের মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্রীমতী সাওনি সিংহ রায়ের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে একথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, মুর্শিদাবাদ জেলা বিভাজন সংক্রান্ত ঘোষণার পূর্বে শাসক দলেরই সাংসদ অথবা সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের সাথেও মতবিনিময় করা হয়নি । হঠাৎ করে মুখ্যমন্ত্রীর এই নাটকীয় ঘোষণা ও বিগত কয়েক দিনের ঘটনাক্রমে আমাদের কাছে একথা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, জেলার মানুষের কথা মাথায় না রেখেই শুধুমাত্র রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়েই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রীমো এই বিভ্রান্তিকর জেলা বিভাজনের ঘোষণা করেছেন। নইলে, এই সকল বিভ্রান্তির নিরসনে সরকারি দপ্তর থেকে এতক্ষণে একটি স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হত।“

নিজস্ব চিত্র

তাই, আমরা ওয়েলফেয়ার পার্টির মুর্শিদাবাদ জেলা বিভাজন কমিটির পক্ষ থেকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর এহেন আপত্তিকর, স্ববিরোধী ও ছল-চাতুরীপূর্ন ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আশা রাখছি যে, উদ্ভুত বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকারের প্রকৃত অবস্থান বাংলার আপামর জনসাধারণের কাছে সুস্পষ্ট করা হবে।” জেলা বিভাজন সংক্রান্ত সরকারের সুস্পষ্ট বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতেই ওয়েলফেয়ার পার্টির মুর্শিদাবাদ জেলা বিভাজন কমিটি তাদের ভবিষ্যত রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়। তবে প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বেই ওয়েলফেয়ার পার্টির মুর্শিদাবাদ জেলা বিভাজন কমিটি বছর খানেক আগেই মুর্শিদাবাদ জেলা বিভাজন বিষয়ে তাদের অবস্থান সাংবাদিক বৈঠক করে জেলার মানুষের কাছে স্পষ্ট করেছে। ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মুর্শিদাবাদ জেলার ভৌগলিক বিস্তৃতি ও প্রায় ৮০ লক্ষ জেলাবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা-উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে পার্টি ইতিপূর্বেই এই বিশালাকার জেলা ভেঙে অন্তত: পক্ষে দুটি প্রশাসনিক পূর্ণাঙ্গ জেলার আবেদন রেখেছে এবং খুব স্পষ্টভাবেই দলের দাবি ছিল যে, বিভাজিত জেলার নামকরণের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যপূর্ণ “মুর্শিদাবাদ” নামটিকে রেখেই নতুন জেলার নামকরণ করতে হবে, কারণ “মুর্শিদাবাদ” নামের সাথে ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে সাথে জেলাবাসীর গভীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। সেসময় পার্টির পক্ষ থেকে একথা বলেও সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, “জঙ্গীপুর” বিভাজিত নতুন জেলার জেলা সদর হতে পারে, কিন্তু জেলার নামকরণের ক্ষেত্রে কোনওভাবেই কালক্রমে বিকৃত ও অবমাননাকর এই “জঙ্গিপুর” শব্দটিকে মেনে নেওয়া হবে না। ওয়েলফেয়ার পার্টির মুর্শিদাবাদ জেলা বিভাজন কমিটি আজও সেই অবস্থানে অনড়। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত উত্তর মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সভাপতি হামিদ শেখ মন্তব্য করেন, “পূর্বপরিকল্পনাহীন ও পরিকাঠামোহীন জেলা বিভাজন কখনই জেলাবাসীর জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না, বরং জেলা বিভাজনের ফলে হয়তো শাসক দলের মধ্যে সাংগঠনিক পদ পাওয়া নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা কিছুটা সামাল দেওয়া যাবে! মুখ্যমন্ত্রীর এই জেলা বিভাজন কী শুধুমাত্র কিছু দলীয় নেতা পোষার জন্য ও তাদের হাতে করেকম্মে খাওয়ার মৌরসি পাট্টা তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ? তাহলে, যেখানে নতুন জেলা গঠনের পরিকল্পনায় বিশ বাঁও জলে এবং তা কার্যকর করতে নাকি আরও ছয় মাস সময় লাগবে বলে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং ঘোষণা দিচ্ছেন, সেই পরিকল্পনার ঘোষণার ক্ষেত্রে এতো তাড়াহুড়ো আর বিভ্রান্তি কেন ? প্রশ্ন কিন্তু থাকছেই। আর, আমরা সেসব প্রশ্নগুলো নিয়েই সরকারের সদিচ্ছা ও কার্যক্রমের উপর নজর রাখব। ইতিপূর্বে সুন্দরবনের ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে ও তাকে আরও গৌরবময় করতে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী নতুন জেলার নামকরণ করলেন সুন্দরবন। নামকরণে ইচ্ছামতী নদীকেও নতুন প্রাণ দিলেন। আর মুর্শিদাবাদ জেলা বিভাজন করে নতুন জেলা সৃষ্টির সময়ে ভুলে গেলেন “মুর্শিদাবাদ” নামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব!  বেমালুম ভুলে গেলেন মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষের আবেগের কথা ! জেলার মানুষের আশা-আকাঙ্খা-উন্নয়নের সাথে সাথে তাঁদের ভাবাবেগের প্রতি আমল না দিয়ে সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে আপনার জেলাভাগ আবারও বঙ্গভঙ্গের স্মৃতিকে সকলের মনে উস্কে দিয়েছে ! আমরা এধরনের তুঘলকি সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সারা জেলা জুড়ে মিটিং, মিছিল করে প্রতিবাদে সোচ্চার হব। গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে আগামীতে প্রয়োজনে নবান্ন অভিযানের পথে হাঁটব বা মাননীয় রাজ্যপালের কাছে এ বিষয়ে ডেপুটেশন দেবো ।” রাজ্য সরকারের এহেন গভীর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আপামর মুর্শিদাবাদবাসীর কাছে পার্টির পক্ষ থেকে আবেদনে জানানো হয় যে, মুর্শিদাবাদ জেলাবাসী যেন ঐক্যবদ্ধভাবে এই পরিকল্পিত অবমাননার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে এবং মুর্শিদাবাদবাসীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যমন্ডিত গর্বের পরিচয়কে অক্ষুন্ন রাখে। এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির উত্তর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য সাবির খান।

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here