সংগ্রামপুর তারাপীঠ ময়না ক্যানিং গলসির ধারাবাহিকতায় আবারও নেশার বলি শান্তিপুরে।অনেক কিছুর মতই মৃত্যুও এ পোড়া দেশে রাজনীতির বিষয়।বিষ মদে স্বজন হারানো পরিবারের যন্ত্রণা শাসক-বিরোধী তরজার বিবৃতিতে চাপা পড়ে যাচ্ছে।রাজ্যের অর্থমন্ত্রী তথা আবগারিমন্ত্রী বিধানসভায় মৃত্যুর কারন নিয়ে তদন্তের উল্লেখ করেছেন।হ্যাঁ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি কিন্তু এতগুলি মানুষের প্রাণের বিনিময়ে কেন?চোলাই কোথায় তৈরি হয়,কিভাবে তা ক্রেতার কাছে পৌঁছে যায় আমজনতা জানে অথচ সরকার জানে না(!) বেআইনী চোলাই কারবারিরা সরকারের চোখ এড়িয়ে দিনের পর দিন কিভাবে ব্যবসা চালিয়ে যায়?শাসকদলের হরেক রকম নেতার চোখ এড়িয়ে যেখানে একটি গাছের পাতাও নড়তে পারে না,সেখানে রাজ্যজুড়ে সরকারি প্রশাসন আবগারি দফতরকে উপেক্ষা করে সমান্তরাল একটা বেআইনী কারবার চলছে কিভাবে?
প্রশ্ন অনেক,উত্তরও জানা।কিন্তু সব প্রশ্ন যেমন করা যায় না,সব উত্তরও দিতে নেই।তাতে ক্ষমতার মোলায়েম চেয়ারের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

মৃত্যুর কারন,কেন কার দোষে এই মৃত্যু তা তদন্ত সাপেক্ষে হলেও সরকারি তরফে ক্ষতিপূরণ কিন্তু ঘোষিত হয়েছে চটজলদি।মা-মাটি-মানুষের সরকার বলে কথা,তদন্তের জন্য অপেক্ষায় থাকা চলে কি?জনতার বেদনায় সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে না তাই কি হয়?

অসহায় মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ নিয়ে কোন বিরোধিতা নেই।সেটি প্রয়োজন।চোলাই বিষে মৃতরা সকলেই নিম্ন আয়কারী।সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির উপার্জন থেকেই কিছুটা ব্যয় করে তারা নেশায় বুঁদ হয়।সামান্য দুমুঠো অন্ন,সাধারণ রোগে স্বল্প পথ্যের চিন্তায় বিনিদ্র রাত্রি যাপনের উপশমে সস্তার বেআইনী চোলাই।বেঁচে থাকার নীলচে বেদনার বিষের থাবা ভুলতেই বিষাক্ত মদের তাড়না।তাদের বেঁচে থাকার সঠিক মানে বোঝাবে কে?জীবনের অর্থ বোঝানোর সেই সামাজিক দায়িত্ব অস্বীকার করে শাসক কি শাসন করার যোগ্যতা লাভ করতে পারে?দু’লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক মৃতের পরিবারের নিকটাত্মীয়দের কান্নার বেগ কমাতে পারে,কিন্তু চলতে থাকা অন্যায়ের অবসান হবে কি?ব্যাথায় মলম লাগিয়ে সাময়িক উপশমের চেয়ে ব্যাথার উৎস ধ্বংস করাই প্রকৃত শাসকের কর্তব্য হওয়া জরুরি নয় কি?নাকি উৎসের খোঁজ অস্বস্তির কারন হবে বলেই এই উপেক্ষা।

কান্না একদিন শুকাবে।প্রথম পাতার হেড লাইনের বিষয় পালটে যাবে কিন্তু বিষবৃক্ষের বীজ থেকেই যাবে।আবার হয়ত কোথাও তার কন্টকে বিদ্ধ হবে কিছু নাগরিক।সমূলে সেই বিষবৃক্ষের উৎপাটনেই সমাধান,শাসক বুঝবে কবে(?)

©Newsfront

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91-9593666485

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here