পলাতক দুই আসামির খোঁজে তল্লাশি জারি

0
77

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুরঃ

আদালত থেকে বিচারাধীন আসামির পালানোর ঘটনার পর রীতিমত চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল ,যা আজকেও অব্যাহত । বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্ণ বেরার সঙ্গে আরও যে দুই যুবককে হাতে বন্দুক উঁচিয়ে, বোমা নিয়ে নিয়ে বাইকে চড়তে দেখা গিয়েছিল তারা হল সেক মুন্না ও সুরজিৎ গুড়িয়া।
গতকাল সারারাতে এদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়েও এখনও পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। এরা প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা ডাকাতির মামলার বিচারাধীন বন্দী। তবে পলাতক সুরজিৎ গুড়িয়া সম্পর্কে তেমন কোনও ভয়ানক তথ্য না পাওয়া গেলেও সেক মুন্নাকে নিয়ে কিন্তু যথেষ্ট উদ্বিগ্ন কাঁথি এলাকার বাসিন্দারা।

সেক মুন্না

কিন্তু কে এই মুন্না ? জেনে নেওয়া যাক তার ব্যাপারে ,
সেক মুন্না কাঁথির ধনদিঘী এলাকার বাসিন্দা। ২০০০ সাল থেকে বিচারাধীন বন্দী হিসেবে জেলে বন্দি রয়েছে সে। এর আগেও বার দুয়েক জেল থেকে পালিয়েছিল এই মুন্না। তবে প্রতিবারই পুলিশের তৎপরতায় পালানোর কয়েকদিনের মাথায় তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
এই সেক মুন্না আসলে এক সময়ের কাঁথি এলাকার ত্রাস মুন্না ডাকাত। খুব অল্প বয়স থেকেই বিরাট ডাকাত দলের সর্দার ছিল সে। তার ডাকাতির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করাটা ছিল অত্যন্ত বেপরোয়া আর নৃশংস পদ্ধতির । প্রতিটি ডাকাতির আগেই ওই বাড়িতে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দিত ডাকাতি করতে আসছে সে,মানে পুরোনো রীতিনীতি পদ্ধতিতেই ডাকাতির ছক ।
তবে পুলিশে খবর দিলে তার জন্য প্রাণ দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিত। বহু ক্ষেত্রেই মুন্নার কাছে আত্মসমর্পণ করত এলাকার বাসিন্দারা। তবে এক সময় কাঁথির এক বাসিন্দা ডাকাতির বিষয়ে পুলিশকে জানিয়ে দিলে তাঁকে গুলি করে খুন করে মুন্না।
তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক ডাকাতি, বেশ কয়েকটি ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ। ২০০০ সাল থেকে মেদিনীপুর জেলে রয়েছে এই মুন্না। এর আগে দু’বার পুলিশেরর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছিল এই এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীটি।
একবার আদালত আসার পথে রেল ক্রসিংয়ে গাড়ি থামলে টয়লেটে যাওয়ার বাহানায় নীচে আসে। এরপর আচমকাই পকেট থেকে লঙ্কা গুড়ো চোখে ছিটিয়ে পালায় সে এখানেই শেষ নয় আর একবার জেলের গেট থেকে বেরনোর সময়ই পালিয়ে যায় । মনে নাটুকে কান্ড কারখানা।
এই মুন্নার বিরুদ্ধে কাঁথি সহ একাধিক এলাকায় মামলা রয়েছে। তাই কখনও সপ্তাহে একদিন আবার কখনও ১৫ দিন অন্তর তাকে কাঁথি আদালতে আনা হয় । গতকাল পলাতক ৪ দুষ্কৃতীকেই মেদিনীপুর জেল থেকে আনা হয়েছিল বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
তিনতলা থেকেও অবলীলায় ঝাঁপ দিয়ে পালাতে সক্ষম এই মুন্না জেলের বাইরে থাকায় কাঁথি এলাকার বাসিন্দারা চূড়ান্ত সন্ত্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। সকলের মনেই আতঙ্ক কোনও বড়সড় ঘটনা না ঘটিয়ে বসে এই দুষ্কৃতী। তাই মুন্না যতক্ষণ না গ্রেফতার হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এলাকাবাসীর স্বস্তি নেই ।
কাঁথি থানা সূত্রে জানা গেছে, আজ ধৃত কর্ণকে পুনরায় কাঁথি আদালতে তোলা হবে। তার বিরুদ্ধে নতুন করে গতকালের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। তবে বাকি দুই পলাতক দুষ্কৃতীর সন্ধানে লাগাতার তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এখনো অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ছাত্রীর, উত্তেজিত জনতার জাতীয় সড়ক অবরোধ

নিউজফ্রন্ট এর ফেসবুক পেজে লাইক দিতে এখানে ক্লিক করুন
WhatsApp এ নিউজ পেতে জয়েন করুন আমাদের WhatsApp গ্রুপে
আপনার মতামত বা নিউজ পাঠান এই নম্বরে : +91 94745 60584

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here